ভ্রমণ করে সুমেরু প্রভা দেখুন


ভ্রমণ করে সুমেরু প্রভা দেখুন

সুমেরু প্রভা পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে গ্যাসীয় কণাগুলোর সাথে সূর্যের সংঘর্ষের কারণে চার্জযুক্ত কণার ফলাফল। বায়ুমণ্ডলের থার্মোস্ফায়ারে থাকা অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন পরমাণুর সঙ্গে ম্যাগনোটোস্ফিয়ার থেকে আসা চার্জিত ইলেক্ট্রন ও প্রোটন কণার ঘর্ষণের ফলে সুমেরু প্রভা বা অরোরা বোরিয়ালিস সৃষ্টি হয়। একে নর্দান লাইটও বলা হয়। সংঘর্ষের ফলে চার্জিত কণাসমূহ থেকে পরমাণু কণাসমূহ কিছু শক্তি লাভ করে। এই অভ্যন্তরীণ সঞ্চিত শক্তি যখন আলোকশক্তি হিসেবে বিকিরত হয় তখনই অরোরা বোরিয়ালিস বা সুমেরু প্রভা দেখা যায়। বিশেষ করে নরওয়েতে সুমেরু প্রভা দেখা যায়।

নরওয়ে ছাড়াও সুইডেন, কানাডা, আলাস্কা, ফিনল্যান্ড, রাশিয়, গ্রীনল্যান্ড,‌ স্কটল্যান্ড ইত্যাদি দেশে সুমেরু প্রভা দেখা যায়। এসব দেশে বছরে ছয় মাস সুমেরু প্রভা দেখা যায়। যখন সুমেরু প্রভা দেখা যায় তখন এক অন্যরকম স্নিগ্ধ আবহাওয়া উপলব্ধি হয়। যেন স্নিগ্ধতার পরশে ভেসে যায় জনপদ। এই মহাজাগতিক আলোর খেলা সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত উপভোগ করা যায়। আসুন জেনে নিই যে দেশগুলোতে ভ্রমণ করে আপনি এই মহাজাগতিক আলোকরেখা অর্থাৎ সুমেরু প্রভা উপভোগ করতে পারবেন সে দেশগুলো সম্পর্কে।

আইসল্যান্ড

পৃথিবীর যে দেশগুলোতে অবস্থান করে আপনি মহাজাগতিক আলোর রেখা অথবা সুমেরু প্রভা উপভোগ করতে পারবেন তার মধ্যে আইসল্যান্ড অন্যতম। আইসল্যান্ডের যেকোনো স্থানে অবস্থান করে আপনি সুমেরু প্রভার স্নিগ্ধ আলোয় নিজের চোখকে প্রশান্তি দিতে পারেন। তবে পিংভেলার ন্যাশনাল পার্কের খোলা সমতল ভূমি সুমেরু প্রভা উপভোগ করার জন্য জনপ্রিয় স্থান। প্রতিবছর এখানে ভিড় জমায় হাজারো দর্শনার্থী। ইউনেস্কো একে বিশ্বের দর্শনীয় স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আইসল্যান্ডে প্রতি বছর অনেক ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক যায় এবং সাশ্রয়ী ও স্বল্প খরচে ভ্রমণ করতে পারে।

ফিনল্যান্ড

ফিনল্যান্ডে পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের মতো অনেক বন ও জঙ্গল রয়েছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর মতো এটি অন্যতম। ফিনল্যান্ডের যেকোন প্রান্তে বসে আলোকরশ্মি অর্থাৎ অরোরা বিরোয়ালিস উপভোগ করা যায়। প্রতি বছরে ২০০ এর বেশি রাত সুমেরা প্রভার আলোক রেখায় মহিমান্বিত হয়। স্থানীয় দর্শনার্থীরা এই আলোক রেখায় মুগ্ধ হয় প্রতিনিয়ত। লোস্টোতে হোটেল অরোরায় প্রতিটি অতিথিকে অ্যালার্মের মাধ্যমে জানিয়ে দেয় যখন নর্দান লাইটস রিসার্চ সেন্টার দেখে নর্দান লাইট দেখা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রদান করে। আপনি যদি আরো অভিজ্ঞতা নিতে চান তাহলে কাকলটটিন আর্কটিক রিসোর্টে থাকতে পারেন যেখানে চমৎকারভাবে আলোক রেখা দেখতে পাবেন।

সুইডেন

সুইডিশ ল্যাপল্যান্ড তার অনন্য মাইক্রোক্লিমেট এর কারণে বৈজ্ঞানিকভাবে একটি আদর্শ দর্শনীয় স্থান বলে প্রমাণিত। এখানে শীতকালের রাতগুলোতে গাঢ় অন্ধকার থাকে এবং ৪৩ মাইল (৭০ কিঃমিঃ) দীর্ঘ টর্নেট্রাস্ক লেক অবিশ্বাস্য নীল আলোক রশ্মি সৃষ্টিতে সহায়তা করে। খোলা আকাশ যেন নির্বিশেষে আলোক রশ্মি বিলিয়ে যায় সুইডেনের পথে পথে। সুইডেনে গিয়ে কিরনা অঞ্চলের জুক্কাসজাভেরি গ্রামে থাকতে পারেন। সুমেরু প্রভা উপভোগ করার জন্য সুইডেন অনন্য একটি দেশ।

আলাস্কা

আলাস্কা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য। আলিউট আলিয়েস্কো ভাষা হতে আলাস্কা শব্দটি নেয়া হয়েছে যার অর্থ বিশাল দেশ বা মহান দেশ অথবা ভূখন্ড। সুমেরু প্রভা আলাস্কার ফেয়ারবাঙ্কস, আলাস্কার অন্যান্য অঞ্চ্‌ল এবং দেনালি, ইউকোন থেকে দেখা যায়। অবস্থানগত কারণে চমৎকার অরোরা বোরিয়ালিস অর্থাৎ সুমেরুপ্রভা দেখা যায়। অরোরা বিরোলিয়াস দেখার জন্য উৎকৃষ্ট যেসব দেশ রয়েছে তার মধ্যে আলাস্কা অন্যতম।

কানাডা

ইয়েলোলাইফ ও হোয়াইটহর্স শহর থেকে দীপ্তিময় আলোর রেখা সুন্দরভাবে দেখা যায়। সুমেরু প্রভাকে উত্তরের দেশগুলো বলে নর্দান লাইট এবং দক্ষিণের দেশগুলো বলে সাউদার্ন লাইট। তবে সকলের কাছে নর্দান লাইট বলে বেশি পরিচিত। কানাডায় চমৎকারভাবে আলোক রশ্মি দেখা যায় যা একজন দর্শনার্থীকে স্নিগ্ধতায় ভরিয়ে তোলে। দারুণ কিছু মুহূর্ত কাটানো যায় এই আলোর রেখা উপভোগ করতে করতে। অন্টারিওর অলিম্পিক লেকের সুপিরিয়রের চারপাশের এলাকা এবং উত্তর কানাডার টুন্ড্রা সুমেরু প্রভা উপভোগ করার জন্য প্রধান দর্শনীয় স্থান।

নরওয়ে

মহাজাগতিক আলোর রেখা সবচেয়ে বেশী দেখা যায় নরওয়েতে। বছরের ছয় মাস এই আলোক রশ্মির জন্য খ্যাত। নরওয়ের আকাশ যেন বর্ণিল আলোকরশ্মিতে ভরে ওঠে সন্ধ্যার আবেশে। নরওয়েতে রয়েছে রুপকথার গল্পের মতো সমুদ্র, তুষার ঢাকা বিস্তৃত মালভূমি ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান। প্রতি বছর হাজারো পর্যটক নরওয়ের রাস্তায় ভিড় জমায় এর চমৎকার দর্শনীয় স্থানসমূহ দেখার জন্য। এছাড়া নরওয়েতে রয়েছে হাজার হাজার নয়নাভিরাম হ্রদ এবং এসব হ্রদে পাওয়া যায় স্যামন মাছ। জেলেদের সারি সারি কেবিন রয়েছে হ্রদের কিনারা জুড়ে।

রাশিয়া

উত্তর রাশিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে সুমেরু প্রভা দারুণভাবে উপভোগ করা যায়। রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপটি সুমেরু প্রভা দেখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। শীতকালের নিম্ন তাপমাত্রা সামলে নিতে পারলে আপনি মারম্যাস্ক শহরে বসবাস করতে পারেন।

গ্রীনল্যান্ড

আইসল্যান্ডের মতো গ্রীনল্যান্ডেও আপনি সুমেরু প্রভা দেখতে পাবেন। বিস্ময়কর সুমেরু প্রভা দেখার জন্য অসংখ্য পর্যটক পাড়ি জমায় গ্রীনল্যান্ডে। বিজ্ঞান বলে সুমেরু প্রভা বা আলোকরশ্মি সৃষ্টি হয় বায়ুমন্ডলীয় বিভিন্ন গ্যাসীয় কণাগুলোর ঘর্ষণের

ফলে, পূর্বে স্থানীয় অনেকে মনে করতেন সুমেরু প্রভা সৃষ্টি হয় পূর্বপুরুষের আত্মা থেকে। তারা ভাবতেন, ওয়ার্লাসের খুলি দিয়ে পূর্বপুরুষের আত্মারা আকাশে ফুটবল খেলতেন। তাই আকাশে সুমেরু প্রভা দেখা যায়।

স্কটল্যান্ড

ব্রিটিশ এলাকাগুলো আপনার প্রধান গন্তব্যস্থল থেকে দূরে রাখুন কারণ সেসব অঞ্চলগুলোতে ঝড়, বৃষ্টি ও মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশ থাকে। শীতের রাতে আকাশ যখন পরিষ্কার থাকে তখন স্কটল্যান্ডের আকাশে দেখা যায় বর্ণিল আলোর রেখা যা সুমেরু প্রভা হিসেবে পরিচিত।

ডেনমার্ক

যদিও ডেনমার্কে ঝড়, বৃষ্টি হয়, যদিও এখানে আর্দ্র আবহাওয়া বিদ্যমান তবুও শীতকালে ডেনমার্কে প্রতিফলিত হয় সুমেরু প্রভা যা নর্দান লাইট হিসেবে খ্যাত।

ব্যবহৃত টিব্যাগের কিছু জাদুকরী ব্যবহার


আমরা সবাই ভাবি, টিব্যাগের কাজ কেবল এক কাপ চনমনে স্বাদের চা তৈরি করা। চায়ের কাপে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে আমরা এটা ফেলে দিই। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এই টিব্যাগের আরো অনেক কাজ রয়েছে।

পায়ের দুর্গন্ধ দূর করে
বিশেষ করে শীতে এ সমস্যা হয়। আবার অনেকের এমনিতেই দুই পা ঘামে। মোজায় বাজে গন্ধ হয়। এই বাজে গন্ধ দূর করে ব্যবহৃত টিব্যাগ। হালকা গরম পানিতে ব্যবহৃত টিব্যাগ ছেড়ে দিন। এবার সেই পানিতে পা ভিজিয়ে রাখুন। দেখবেন দুর্গন্ধ চলে গেছে। সেই সঙ্গে ত্বকেরও যত্ন নেয়।

মরচে তাড়ানো
অনেক সময়ই রান্নার বাসন-কোসনে মরচে পড়ে যায়। টিব্যাগে থাকে টানিস। এটা মরচে পড়া বাসনে অক্সিডেশনের মাধ্যমে মরচে দূর করে। কাজেই এসব বাসন টিব্যাগ দিয়ে ঘষতে থাকুন। দেখবেন মরচে চলে যাচ্ছে।

চোখের নিচের ফোলাভাব দূর করতে
ব্যবহৃত দুই তিনটি টিব্যাগ ঠাণ্ডা হতে দিন। এবার দুই চোখ বন্ধ করে সেগুলো চোখের ওপর রাখুন। আকাঙ্ক্ষিত ফল পেতে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। দেখবেন, চোখের নিচে ফোলাভাব দূর হয়ে গেছে এবং চোখ দুটো বেশ আরাম পাচ্ছে।

বাগানের গাছে
টব বা বাগানে গাছেদের ছত্রাক সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে পারে টিব্যাগ। ব্যবহৃত টিব্যাগগুলো আবারো পানিতে গরম করুন। এই পানি দিতে পারেন গাছের গোড়ায়। এর ট্যানিক এসিড এমনিতেই বাগানের প্রাকৃতিক সারের কাজ করবে।

গ্লাস ক্লিনার
ব্যবহৃত টিব্যাগ আবারো পানিতে গরম করুন। এই পানি ময়লা কাচে স্প্রে করে মুছে নিন। দেখবেন কাচ পরিষ্কার হয়ে গেছে।

কার্পেটের বাজে গন্ধ দূর করতে
ব্যবহৃত চা পাতা এবং তার সঙ্গে কিছু বেকিং সোডা মিলিয়ে কার্পেটে ছিটিয়ে দিন। এটা ২০-২৫ মিনিট রাখবেন। চা এবং বেকিং সোডার মিশ্রণ বাজে গন্ধ শুষে নেবে।

কাটা-ছেঁড়া নিরাময়ে
ব্যবহৃত টিব্যাগ ঠাণ্ডা করে তা কাটা-ছেঁড়ায় চেপে ধরুন। এতে জ্বালাপোড়া কমে যাবে এবং লালচেভাবও হ্রাস পাবে।

খাবারে ভিন্ন গন্ধযোগে
একটি পাত্র পানি ফোটাতে থাকুন। সেই পানির ওপরে ঝুলিয়ে রাখুন ব্যবহৃত টিব্যাগ। এতে ওই পানিতে চায়ের তরতাজা গন্ধ মিশে যাবে। এবার সেই পানিতে পাস্তা বা নুডলস রান্না করতে পারেন।

মুখের বাজে গন্ধ দূরীকরণে
ব্যাকটেরিয়ার কারণে মুখে বাজে গন্ধ হয়। ব্যবহৃত টিব্যাগ আবারো পানিতে ফুটিয়ে দিন। এবার সেই পানিতে কুলকুচি করুন। বাজে গন্ধ চলে যাবে।

রহস্যঘেরা ভৌতিক পাঁচ পার্ক!


পশ্চিমি হরর সিনেমায় লোকেশন হিসেবে অ্যামিউজমেন্ট পার্ক অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে গত বিশ বছরে। কার্যত এই থিমকে বিশেষ ভাবে ব্যবহার করেন পরিচলকরা হরর-এ ভিন্নতর মাত্রা আনার জন্য। অ্যামিউজমেন্ট পার্কের লোম খাড়া করে দেওয়া রাইডের সঙ্গে যদি ভূত বা জোম্বি যুক্ত হয়, তা হলে সোনায় সোহাগা। ‘জোম্বিল্যান্ড’ (২০০৯), ‘দ্য ফাইভ মেন ইউ মেট ইন হেভেন’ (২০০৪) ইত্যাদি সেই কথাই বলে।

রোলার কোস্টারের উথাল-পাথাল যাত্রায় টানেলের অন্ধকারে কোন বিপদ ওৎ পেতে রয়েছে, তা অনুমান করা সহজ নয়। এই মূলধনকে সম্বল করেই সিনেমাওয়ালারা অ্যামিউজমেন্ট পার্ককে হরর ছবির আশ্রয়স্থল বানান। কিন্তু যদি জানা যায়, বাস্তবেই রয়েছে এমন কিছু অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, যাদের বদনাম রয়েছে ভৌতিকতার কারণে, তা হলে কেমন লাগে?

হরর বিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘দ্য হন্টিস্ট’ এই ধরনের অ্যামিউজমেন্ট পার্কের এক বিস্তারিত তালিকা পেশ করেছে। এখানে ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য বাছাই করা ৫টি পার্কের বর্ণনা তুলে ধরা হলো।

সিক্স ফ্ল্যাগস, নিউ অর্লিন্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র— সব থেকে ভৌতিক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক হিসেবে পরিচিত। ২০০০ সাল নাগাদ এই পার্কটি চালু হয়। কিন্তু ২০০৫-এর ক্যাটরিনা ঘূর্ণিঝড়ে এটি ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু এটাকে পুনরায় চালু করার জন্যে তেমন ফান্ড পাওয়া না যাওয়ায় এটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। রাতের দিকে এখানে শিশুদের আওয়াজ, রোলার কোস্টারের ক্যাঁচকোঁচ অথবা ভুতুড়ে বাজনা শোনা যায়, অনেকে বলেন।

প্রিপায়াত অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, ইউক্রেন— ১৯৮৬ সালের ১ মে পার্কটির উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। চেরনোবিলের ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার ফলে তা চিরকালের জন্য বাতিল হয়ে যায় এই পরিকল্পনা। তেজষ্ক্রিয়তার কারণে চেরনোবিল-সংলগ্ন এই শহরটিও পরিত্যক্ত হয়। ক্রমশ বদনাম রটে এই পার্কের। পরিত্যক্ত শহরের মৃত শিশুদের দীর্ঘশ্বাস নাকি ঘিরে থাকে এই কোনও দিনও চালু না হওয়া পার্কটিকে।

ওকাপো ল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া— ১৯৯৯ সালে একটি রোলার কোস্টার থেকে পড়ে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যুর পরে পার্কের ম্যানেজার নিখোঁজ হয়ে যান। ২০১১ সাল পর্যন্ত পড়ে ছিল এই অ্যামিউজমেন্ট পার্ক। এর ভৌতিক কুখ্যাতি ছিল সাংঘাতিক। পরে অবশ্য পার্কের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেওয়া হয়।

নারা ড্রিমল্যান্ড, জাপান— মার্কিন মুলুকে ডিজনিল্যান্ড দেখে জনৈক জাপানি ব্যবসায়ী এই পার্কের পরিকল্পনা করেন কুনিজো মাৎসুও নামের সেই ব্যবসায়ী ডিজনির সঙ্গে দেখাও করেন। কিন্তু ওয়াল্ট ডিজনি শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগে সামিল হননি। পরে ১৯৬১ সালে মাৎসুও নিজাই তৈরি করেন পার্কটি। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ভালই চলেছিল এটি। কিন্তু ওই বছর টোকিও ডিজনিল্যান্ড খুললে এই পার্ক তার জনপ্রিয়তা হারায়। ক্রমে তা জনহীন হয়ে পড়ে। ২০০৬ সালে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে পার্কটি। তার পরে তাকে ঘিরে পল্লবিত হয় ভৌতিক কাহিনি।

ডিজনি’জ রিভার কান্ট্রি, বে লেক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র— ডিজনি ওয়ার্ল্ডের প্রথম ওয়াটার পার্ক ৯/১১-র পরে বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, সেই দুর্ঘটনা মার্কিন দেশের পর্যটন অর্থনীতিকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিল। পরে তা পাকাপাকি ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। একে ঘিরেও ছড়াতে থাকে ভৌতিক কাহিনি।

পুরুষদের চেয়ে নারীরা কেন বেশি দিন বাঁচে?


গড়পড়তা পুরো পৃথিবীতেই নারীরা পুরুষদের চেয়ে দীর্ঘ জীবনকাল উপভোগ করে।

ডেভিড রেবসন নামে একজন লোক অনেক খেটেখুটে এর পেছনের কারণগুলো অনুসন্ধান করেছেন। তার ভাষায়- যে মুহূর্তে আমার জন্ম হয়েছিল, সে মুহূর্ত থেকে আমার সাথে জন্ম নেয়া অর্ধেক শিশুর আগেই আমার মারা যাওয়ার নিয়তি তৈরি হয়ে গিয়েছিল।

এটা এমন এক অভিশাপ যা আমার এড়িয়ে যাবার কোনো অবকাশ নেই। এর কারণ? আমার লিঙ্গ।

আমি পুরুষ হবার কারণে একই দিনে জন্ম নেয়া নারীদের তুলনায় প্রায় তিন বছর আগে আমার মৃত্যু হবে- পরিসংখ্যান এমনটাই বলছে।

কেন একজন ছেলে হবার কারণে আমি আমার সমবয়সী নারীদের তুলনায় আগে মারা যাব? এবং আমার কি এই লিঙ্গের অভিশাপ থেকে বেড়িয়ে আসা সম্ভব?

এই গোলমেলে বৈষম্যটি কয়েক দশক ধরে পরিচিত একটি বিষয়।

সাম্প্রতিক বিজ্ঞান এর কিছু উত্তরে এসে পৌঁছেছে। একটি প্রাথমিক ধারণা হলো, পুরুষেরা নিজেরাই এর পেছনে দায়ী।

যুদ্ধে অংশ নিয়ে, খনিতে কাজ করে কিংবা জমিতে চাষ করে তারা তাদের প্রাণের উপর অতিরিক্ত ঝুঁকি নেয় এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়।

তবে, এটাই যদি মূল কারণ হয়ে থাকে তবে নারী পুরুষ উভয়কে মিলিতভাবে একই রকম পরিশ্রমসাধ্য কাজ করতে দিয়ে আমরা এ বৈষম্য দূর করতে পারি।

সত্যিকার অর্থে বিশাল সামাজিক পরিবর্তন সাধিত হলেও নারী-পুরুষের বেঁচে থাকার এই বৈষম্য ঠিকয় বজায় থাকে।

সুইডেনের কথাই ধরা যাক, এই দেশটি সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ঐতিহাসিক দলিল পেশ করে থাকে। ১৮০০ সালে নারীদের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ছিল ৩৩ বছর এবং পুরুষদের ৩১ বছর। বর্তমানে এটি যথাক্রমে ৮৩.৫ বছর এবং ৭৯.৫ বছর। এই দুই ক্রান্তিকালেই নারীরা দৃশ্যত পুরুষদের তুলনায় ৫ শতাংশ সময় বেশি বাঁচে।

একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের মতে- ‘পুরুষদের তুলনায় এই অসামাঞ্জস্যপূর্ণ বেঁচে থাকার সুবিধা নারীদের প্রাথমিক,বার্ধক্য এবং সম্পূর্ণ জীবনে; প্রতিটি দেশে, প্রতিটি বছর দেখা যায়। নারী পুরুষের মাঝে এটিই মনে হয় সবচেয়ে ক্লাসিক বৈষম্য।

এটাও দাবী করা যায় না যে, পুরুষেরা তাদের শরীর তথা জীবনের প্রতি তুলনামূলকভাবে কম যত্নশীল।

ধূমপান, মদ্যপান এবং অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণের মতো বিষয়গুলো হয়তো ব্যাপারটাকে আংশিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে, কিন্তু এটাই চূড়ান্ত কারণ নয়। রাশিয়াতে নারীদের তুলনায় পুরুষেরা ১৯ বছর আগে মারা যায়, আংশিকভাবে যার কারণ অতিরিক্ত ধূমপান এবং মদ্যপান।

মজার ব্যাপার হচ্ছে নারী শিম্পাঞ্জি, নারী গরিলা এবং নারী ওরাংওটাংরাও তাদের প্রজাতির পুরুষদের তুলনায় বেশি দিন বাঁচে। আপনি কি কখনো কোনো শিম্পাঞ্জি, গরিলা কিংবা ওরাংওটাংকে সিগারেট বা মদের গ্লাস হাতে দেখেছেন? না।

এটা বোঝা যাচ্ছে যে নারী-পুরুষের আয়ু সংক্রান্ত উত্তরটা আমাদের বিবর্তনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। ‘অবশ্যই সামাজিক এবং জীবনভিত্তিক বিষয়গুলো আয়ুর উপর প্রভাব ফেলে, কিন্তু তার চেয়েও গভীর কিছু রয়েছে আমাদের পরস্পরের জীববিজ্ঞানের মধ্যে।’এমনটাই বলেন ইউরোপের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের গবেষক টম কার্কউড।

জীববিজ্ঞানের অনেক বিষয় এর পেছনে কাজ করে। গুচ্ছ-ডিএনএ দিয়ে শুরু হোক। এরা প্রতিটি কোষের মধ্যে যা ক্রোমোসোম হিসেবে পরিচিত।

ক্রোমোসোম জোড়ায় জোড়ায় থাকে, এবং নারীদের দুটি X ক্রোমোসোম, পুরুষদের একটি X ও একটি Y। ক্রোমোসোম সংক্রান্ত এই পার্থক্যটি খুব চতুরভাবে কোষের বয়স পরিবর্তন করে দিতে পারে।

যেহেতু নারীদের প্রতি কোষে দুটি X ক্রোমোসোম রয়েছে, তাই তাদের প্রতিটি জিনের অনুলিপি থাকে, অর্থাৎ তাদের অতিরিক্ত একটি থেকে যায়, যদি অপরটি কাজ না করে অথবা নষ্ট হয় তখন কাজে লাগে। পুরুষদের বেলায় এমন বিকল্প কিছু নেই।

নারীদের মতো কোনো বিকল্প না থাকার কারণে ফলাফল স্বরূপ অনেক কোষই সময়ের সাথে সাথে অকার্যকর হয়ে যাবার সম্ভাবনায় থাকে।

এতে পুরুষদের রোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। অন্যান্য বিকল্প বিষয়গুলোর মধ্যে ‘ব্যায়ামকারী নারীর হৃদপিণ্ড’ (jogging female heart) হাইপোথিসিস। এর ধারণাটি হলো, একজন নারীর হৃদপিণ্ডের গতি বাড়তে থাকে রজচক্রের দ্বিতীয় অর্ধাংশে, যা পরিমিত ব্যায়ামের মতই উপযোগী। এবং এই প্রক্রিয়াটি হৃদপিণ্ডজনিত যেকোনো রোগ হবার প্রবণতা কমিয়ে দেয়।

অথবা হতে পারে আকৃতিগত কোনো সহজ ব্যাপার। লম্বা মানুষদের শরীরে কোষের সংখ্যা বেশি, এই ধরনের কোষগুলো ক্ষতিকরভাবে বিকশিত হবার সম্ভাবনা বেশি। তুলনামূলকভাবে বড় শারীরিক গঠন অধিক পরিমাণ শক্তি দহন করে।

যেহেতু পুরুষেরা মেয়েদের চেয়ে প্রায়ই লম্বা হয়ে থাকে, সেহেতু তাদের আরো দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

তবে প্রকৃত কারণ সম্ভবত টেস্টোস্টেরনের মাঝে নিহিত আছে, যা অধিকাংশ পুরুষদের পুরুষালী বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী। গভীর কণ্ঠস্বর, লোমশ বুক হতে শুরু করে নিরাভরণ টাক মাথা পর্যন্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর জন্য টেস্টোস্টেরন দায়ী।

কোরিয়ার Court of the Chosun Dynasty থেকে অপ্রত্যাশিত কিছু তথ্য পাওয়া যায়।

সম্প্রতি কোরিয়ান বিজ্ঞানী হান নাম পার্ক উনিশ শতাব্দী থেকে কোর্ট লাইফ রেকর্ডগুলো বিশ্লেষন করেন, তার মধ্যে ৮১ জন নপুংসকও ছিল। যাদের বয়ঃসন্ধির আগেই শুক্রাশয় অপসারণ করে ফেলা হয়।

তার বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, ঐ নপুংসকেরা ৭০ বছরের মতো আয়ু পেতো, যেখানে অন্যান্য স্বাভাবিক পুরুষেরা আয়ু পেতো গড়ে ৫০ বছর। তাদের ১০০ তম জন্মদিন পালনের সম্ভাবনা ছিল প্রকট। এমনকি ঐ সময়ের রাজারাও এমন আয়ুর কাছাকাছি আসতে পারতো না।

যদিও শুক্রাশয় নিয়ে অন্য সব গবেষণা আয়ু নিয়ে এমন পার্থক্য দেখায় না। সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, শুক্রাশয় ছাড়া পুরুষ মানুষ ও অন্যান্য পুরুষ প্রাণীরা বেশিদিন বেঁচে থাকে।

আয়ুর পার্থক্যের সঠিক কারণগুলো এখনো অধরা। তবে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ডেভিড জেমস মনে করেন করেন, এই ক্ষতি হয়তো বয়ঃসন্ধিকাল শেষ হয়ে যাবার কারণেই হয়।

তার দাবী প্রমাণের জন্য তিনি মানসিক রোগীদের কিছু বিষন্ন কেস উপস্থাপন করেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে এই রোগীদেরকে নপুংসকে পরিণত করতে হয়।

কোরিয়ান নপুংসকদের মতো তারাও অন্যান্যদের চেয়ে অনেকদিন বেশি বেঁচে ছিল। উল্লেখ্য তাদের ১৫ বছরের আগেই খোঁজাকৃত করা হয়।

টেস্টোস্টেরন হয়তো পুরুষের শরীরকে সাময়িকভাবে শক্তিশালী করে, কিন্তু একই পরিবর্তন তাদের হৃদপিণ্ডজনিত রোগ সহ অন্যান্য সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় এবং পরবর্তী জীবনে ক্যান্সারের দিকে ঠেলে দেয়।

উদাহারণসরূপ বলা যায়, টেস্টোস্টেরন হয়তো আমাদের দেহে সেমিনাল ফ্লুইডের উৎপাদন বৃদ্ধি করে, কিন্তু পরবর্তীতে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে, কিংবা হৃদপিণ্ডের সংবহনন্তান্ত্রিক ক্রিয়া পরিবর্তন করে দিতে পারে যা প্রথম দিকে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করলেও পরবর্তীতে উচ্চ-রক্তচাপ, অথেরোস্ক্লেরোসিসের জন্ম দিতে পারে। এমনটাই বলেন জনাব জেমস।

নারীরা শুধুমাত্র টেস্টোস্টেরনের ঝুঁকি থেকেই মুক্ত নয়, পাশাপাশি তারা আরো সুবিধাও পায়। তারা নিজেদের “যৌবনের স্পর্শমণি” (elixir of youth) থেকেও সুবিধা পায়, যা তাদের ভবিষ্যতের ভয়াবহতাগুলো থেকে সহজে উৎরে যেতে সাহায্য করে।

নারীর সেক্স হরমোন ইস্ট্রোজেন একটি “অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট”,যা কোষে চাপ সৃষ্টিকারী বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থদের বিতাড়িত করে। প্রাণীদের ক্ষেত্রেও এটা কার্যকর।

প্রাণীদের নিয়ে পরীক্ষায় দেখা গেছে নারীদের দেহে ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি হলে কিংবা যারা ইস্ট্রোজেন স্বল্পতা নিয়ে বেড়ে ওঠে তারা বেশিদিন বাঁচে না। ঠিক বিপরীতটি ঘটে পুরুষ নপুংসকদের ক্ষেত্রে।

নপুংসকতাকে দূরে ঠেলে বংশগতির ধারা অব্যাহত রাখার জন্যই এমনটি ঘটে থাকে। এ হিসেবে পুরুষের সামান্য স্বল্প আয়ু মানুষ তথা পুরো প্রাণিজগতকে বিবর্তনীয় উপযোগীতা প্রদান করে।

কিছু পার্থক্য নারী-পুরুষ উভয়কেই টিকে থাকতে সাহায্য করে। মিলনের ক্ষেত্রে নারীরা প্রধানত অধিক পরিমাণ পুরুষালী বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন তথা অধিক পরিমাণ টেস্টোস্টেরন নিঃসরণকারী পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এতে করে আয়ু বৈষম্যের ধারাও অধিক হতে থাকে। চাইলেও সহজ কিছু প্রচেষ্টা কিংবা উদ্যোগ দিয়ে এটা দূর করা সম্ভব নয়।

যদিও ব্যাপারটি পুরুষের ভালো লাগার কথা নয়। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী এর একটি সুনির্দিষ্ট উত্তরের জন্য আরো অনেক কাজ করে যেতে হবে।

কার্কউডের মতে- হরমোন সহ অন্যান্য নিয়ামক জীবনযাপনের ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন আনতে পারে তা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। হতে পারে, এই অর্জিত জ্ঞানই আমাদের দীর্ঘ দিন বাঁচিয়ে রাখতে সহায়তা করবে।

শিশুরা পেন্সিল ধরা ভুলে যাচ্ছে


হাতে লেখার গুরুত্ব নিয়ে গবেষকরা দ্বিধাবিভক্ত কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে হাতের লেখার চল কমে যাচ্ছে।

আইপ্যাডের মত ডিজিটাল যন্ত্রে অভ্যস্ত হয়ে ঠিকমতো পেন্সিল ধরতে পারছে না শিশুরা।

ডিজিটাল যুগে শিশুদের স্বভাব বদলে যাচ্ছে। একসময় যে বয়সের শিশুরা লেগো দিয়ে খেলতো, এখন তারা খেলছে আই প্যাডে।

আই প্যাডের মত ডিজিটাল যন্ত্রের প্রতি শিশুদের আসক্তিতে ব্যস্ত বাবা-মাদের অনেক সুবিধা হচ্ছে।

ডিজিটাল যন্ত্রপাতি নাড়াচাড়া করে শিশুদের সাড়া দেওয়ার অনুভূতিও ক্ষুরধার হচ্ছে হয়তো, কিন্তু লেখার জন্য আঙুলের পেশী নিয়ন্ত্রণের যে সূক্ষ্ম দক্ষতা দরকার তা কি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে?

ইংল্যান্ডে শিশুদের থেরাপি বিষয়ে একজন নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞ স্যালি পেইন তার পর্যবেক্ষণে দেখেছেন ডিজিটাল যুগের শিশুদের সেই দক্ষতা নষ্ট হচ্ছে।

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, স্কুলে ঢোকার পর শিশুদের হাতে যখন পেন্সিল দেওয়া হচ্ছে, তারা সেটাকে ঠিকমতো ধরতে পারছে না, কারণ সেটিকে ব্যবহারের জন্য মৌলিক যে দক্ষতা দরকার সেটা তাদের নেই।

‘পেন্সিল ধরে সেটাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কাজে লাগানোর জন্য হাতের আঙুলের সূক্ষ্ম পেশিগুলোর ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ লাগে...সেই দক্ষতা অর্জনে অনেক অনুশীলন এবং সুযোগ দরকার’।

মিস পেইন বলেন, ডিজিটাল ট্যাব এবং স্মার্ট ফোন ব্যবহারের অবাধ সুযোগ পেয়ে, শিশুদের মধ্যে পেন বা পেন্সিল ধরার এবং তা ব্যবহারের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্লক দিয়ে বিল্ডিং বানানোর মত খেলা, দড়ি বা ইলাস্টিক টানতে হয় এমন ধরণের খেলনা ব্যবহারে শিশুদের সেই পেশি ব্যবহারের ক্ষমতা তৈরি হয়। ‘আই প্যাড ব্যবহার করে সেটা হয়না’।

ব্রিটেনে যোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের হিসাবে দেশের অর্ধেকেরও বেশি পরিবারে ডিজিটাল ট্যাবলেট এবং অন্তত ৭৬ শতাংশ পরিবারে স্মার্ট ফোন রয়েছে।

হাতের লেখার পক্ষে প্রচারণা করছে এমন একটি সংস্থার সাথে কাজ করেন ড জেন মেডওয়েল। তিনি বলেন, ঘরে ঘরে ডিজিটাল যন্ত্রের উপস্থিতি যত বাড়ছে, শিশুদের মধ্যে পেন্সিলের ব্যবহার তত কমছে।

‘একসময় শিশুরা দেখতো তার বাবা-মা পেন দিয়ে বাজারের ফর্দ লিখছে, এখন তারা দেখে বাবা-মা মোবাইল ফোনে টেক্সট করছে। ফলে শিশুদের প্রথম শিক্ষার ধারাও বদলে গেছে’।

তবে তিনি বলেন, ট্যাব ব্যবহারে আঙুলের পেশি ঘোরানোর দক্ষতা একবারে নষ্ট হয়ে যায়, এমন কথা বলার সময় এখনো হয়তো আসেনি।

‘এখনো এমন গবেষণা হয়নি যেটা বলছে ট্যাব ব্যবহার করলে একজন শিশুর শুধু আঙুল ঘষার দক্ষতা তৈরি হয় এবং সে পেন্সিল ধরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে’। তবে তিনি বলেন, হাতে লেখার গুরুত্ব অপরিসীম।

২০১৬ সালে এক গবেষণায় দেখা যায় যে সব ছাত্ররা হাতে লেকচার নোটস লেখেন, তারা পরে সেগুলো অনেক ভালো মনে রাখতে পারেন এবং তাদের ধারণা অনেক পরিচ্ছন্ন থাকে।

কম্পিউটার বা ট্যাবে যারা নোটস নেন, তারা অনেক লিখতে পারলেও পরে মনে রাখতে পারেন না।

বিশেষ করে শিশুদের জন্য হাতের লেখার গুরুত্ব অনেক। ‘হাতে একটি চিঠি লেখা, আঙুলের জটিল ব্যবহার, এগুলোর জন্য শিশুদের অনেক অনুশীলন করতে হয়, এবং তার ভেতর দিয়েই শিশুদের জ্ঞান লাভ হয়’।

২০১৪ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি তিনজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের একজন টানা ছয় মাস হাতে কিছু লেখেনি।

তবে শিক্ষা জগতে এখনো হাতে লেখা অপরিহার্য। ব্রিটেনে প্রাইমারি স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক কিছুই এখনো হাতে লিখতে হয়।

কিন্তু আগের দিনের মতো সুন্দর করে পেঁচিয়ে অক্ষরের সাথে অক্ষর যুক্ত করে শব্দ লেখার সেই চল বলতে গেলে উঠেই যাচ্ছে।

ড মেডওয়েল বলছেন - সুন্দর হস্তাক্ষর তেমন কোনো ইস্যু নয়, আসল কথা - হাতে লেখার দক্ষতা ধরে রাখা, সেটা নষ্ট হলে শিশুদের জ্ঞানার্জনও বাধাগ্রস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

উড়োজাহাজের রঙ কেন সাদাই হয়?


কেউ হয়তো উড়োজাহাজের চড়েছে, কেউ চড়েনি। কিন্তু সত্যিকারের উড়োজাহাজ না দেখলেও ছবি দেখেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু উড়োজাহাজের রং সাদা হয় কেন? সাধারণ ভাবে এ প্রশ্ন মাথায় আসে না, কারণ বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করা হয়নি। একটু ভাবলেই দেখবেন, বিষয়টা সত্যি। কিছু কিছু উড়োজাহাজ স্ট্রাইপ, লাল-নীল রঙের সাজসজ্জা দেখা যায়। এরকম আরো ব্যতিক্রম নিশ্চয়ই আছে। তবে সেটা শেষ পর্যন্ত ব্যতিক্রমই। অধিকাংশ বিমানের রঙই সাদা। আর অন্য রঙের উড়োজাহাজগুলোর বেইজ কালারও কিন্তু সাদাই হয়।

উড়োজাহাজের রং সাদা হওয়ার অনেকগুলো কারণ আছে। উড়োজাহাজের রঙ সাদা করার সঙ্গে গরমকালে সাদা কাপড় পরার একটা সম্পর্ক রয়েছে, শুনে অবাক হচ্ছেন? আসলে সাদা রঙ তাপকে শোষণ করে না। প্রতিফলিত করে দেয়। ফলে সাদা কাপড় পরলে যেমন গরম কম লাগে, তেমনই সাদা রঙের বিমানও সহজে গরম হয় না। আর উড়োজাহাজের বডির ভেতরের দিকে তাপ অপরিবাহী পদার্থ থাকে। তাই যেটুকু তাপ শোষণ করে তা বিমানের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না।

তাছাড়া, উড়োজাহাজের রঙ সাদা হওয়ার ফলে এর কোথাও ফুটো হলে, তেল চুঁইয়ে পড়লে বা কোনো ফাটল সৃষ্টি হলে সহজেই সেটা খুঁজে পাওয়া যায়। উড়োজাহাজ হারিয়ে গেলে খুঁজে বের করতেও সাহায্য করে এ সাদা রঙ। অরণ্য বা সমুদ্রের মতো জায়গাতেও খোঁজ মেলে উড়োজাহাজের। দিনের বেলাতেই কেবল নয়, রাতের বেলাতেও সাদা রঙের জন্য সহজেই চোখে পড়ে উড়োজাহাজকে। সাদা রঙের সঙ্গে নিরাপত্তার একটা সম্পর্ক আছে। উড়োজাহাজের রঙ সাদা হলে যাত্রীরাও নিরাপদ বোধ করে।

তাছাড়া আরো একটি কারণ আছে। সেটা একেবারেই অর্থনৈতিক। আসলে উড়োজাহাজে সাদা রঙ করতে যা খরচ সেটা অন্য রঙের তুলনায় অনেক কম। এমনিতেই খুব বড় আকারের উড়োজাহাজ রঙ করার খরচ বিপুল। তাই সাদা রং করলে সেই বিশাল বাজেটকে অনেকটাই ম্যানেজ করা যায়। তাছাড়া রোদের তেজে অন্য রঙ সহজেই ফ্যাকাশে হয়ে যায়। সাদা রঙ সেই তুলনায় অনেক দিন পর্যন্ত অবিকৃত থাকে।

স্টিফেন হকিংয়ের পাঁচ ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী


হুইল চেয়ারে বসেই দৃশ্যত মহাবিশ্ব ভ্রমণ করেছেন বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। তবে জিবদ্দশায় মানবসভ্যতা কীভাবে এবং কবে ধ্বংসের মুখোমুখি হবে, সে বিষয়ে ভয়ংকর কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন।

হকিংয়ের শীর্ষ পাঁচটি ভবিষ্যদ্বাণীর একটি তালিকা করেছে ক্যামব্রিজ নিউজ। জেনে নিন সেই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো।

১. আগুনের গোলায় পরিণত হতে পারে পৃথিবী
হকিং পৃথিবী ধ্বংসের সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে তার ধারণায় বলেন, ৬০০ বছরের কম সময়ের মধ্যেই আমরা সবাই মারা যাব। কারণ, পৃথিবীতে মানুষ বেড়ে যাবে এবং আমাদের যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হবে, এতে পুরো পৃথিবী পুড়ে লাল হয়ে যাবে। অর্থাৎ পৃথিবী আগুনের গোলায় পরিণত হবে।

গেলো বছরের নভেম্বরে চীনের বেইজিংয়ে টেনসেন্ট উই সামিটে তিনি এ তত্ত্ব দেন।

ওই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা তাদের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন। হকিং বলেন, ২৬০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর মানুষের কাঁধে কাঁধ ঠেকে যাবে। তাদের যে বিদ্যুৎ লাগবে, এতে পৃথিবী লাল গোলা হয়ে যাবে। পৃথিবীকে রক্ষা করতে হলে মার্কিন টিভি সিরিজ ‘স্টার ট্রেক’ থেকে ধারণা নিতে হবে।

যেখানে কেউ যায়নি—এমন কোথাও বা ভিনগ্রহে দ্রুত জায়গা খুঁজে নিতে হবে এবং আলোর গতিতে যোগাযোগের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে।

২.রোবটেরা পৃথিবী দখল করবে 
উইয়ার্ড ম্যাগাজিনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে হকিং বলেছিলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে আমাদের যেমন সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত, তেমনি এটা মনে রাখতে হবে যে তারা হবে বিপজ্জনক। আমার ভয় হচ্ছে, তারা সত্যিই মানুষকে হটিয়ে দেবে। মানুষ যদি কম্পিউটার ভাইরাস তৈরি করতে পারে, তবে কেউ এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমান তৈরি করে বসবে, যে তাকেই সরিয়ে দেবে। এটা জীবনের আরেকটি রূপ হবে এবং বুদ্ধির দিক থেকে মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে।

৩. পারমাণবিক বোমা ও মানুষের আগ্রাসনে ধ্বংস হবে পৃথিবী
বর্তমানে বিশ্বের ক্ষমতাধর অনেকগুলো দেশের হাতেই পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। যেকোনো সময় বেধে যেতে পারে যুদ্ধ। ৭৫তম জন্মদিনে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মানুষের ভেতর লোভ ও আগ্রাসন তৈরি হয়েছে। সংঘর্ষ কমার কোনো লক্ষণ তাতে নেই। সমরাস্ত্র ও যুদ্ধসরঞ্জাম পৃথিবীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। মানবসভ্যতাকে টিকিয়ে রাখার স্বপ্ন দেখতে হলে মহাকাশে স্বাধীন কলোনি স্থাপন করতে হবে।

৪. অন্য গ্রহে জায়গা খুঁজতে হবে দ্রুত
পৃথিবীতে মানুষের বিলুপ্তি ঠেকাতে পুরোপুরি প্রযুক্তি সক্ষমতার সন্ধান করতে হবে। বিশেষ করে অন্য গ্রহে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি ও কারিগরি ব্যবস্থা উন্নয়ন করতে হবে। তা না হলে পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন, অধিক জনসংখ্যা ও মহামারিতে মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

৫.ট্রাম্প
স্টিফেন হকিং মার্কিন প্রেসিডেন্টের কঠোর সমালোচক ছিলেন। প্যারিসে জলবায়ু পরিবর্তন চুক্তিতে ট্রাম্প যখন সই করতে অনীহার কথা জানান, তখন সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিলেন হকিং। ওই সম্মেলনে বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলো দূর করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গত জুলাই মাসে বিবিসিকে হকিং বলেন, জলবায়ু চুক্তি থেকে ট্রাম্পের সরে আসার সিদ্ধান্ত পৃথিবীকে ধ্বংসের কিনারে ঠেলে দেবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবী শুক্র গ্রহের মতো হয়ে যাবে, যেখানে তাপমাত্রা ২৫০ ডিগ্রি ছুঁয়ে যাবে, সালফার বৃষ্টি হবে। আমাদের সামনে এখন অন্যতম বড় বিপদ এই জলবায়ু পরিবর্তন। আমরা পদক্ষেপ নিলে এ বিপদ প্রতিরোধ করতে পারি।

ট্রাম্পের সমালোচনা করে হকিং বলেন, জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে গিয়ে ট্রাম্প আমাদের এ সুন্দর পৃথিবীটার পরিবেশের ক্ষতি করছে, আমাদের ও শিশুদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।

এ দিকে ব্রিটিশ পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংয়ের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধায় অবনত হয়েছে বিশ্ব। মহান এ বিজ্ঞানীর মৃত্যুর ঘটনা জানার পরপরই টুইটারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শোক জানিয়েছেন বিশ্বের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বরা।

স্টিফেন হকিংয়ের জীবন বদলানো ১০ উক্তি


১. কেউ যদি বলে আপনি ভুল করেছেন তাকে বলবেন, ভুল করা দরকারি। ভুল না করলে আমি বা আপনি কেউই বেঁচে থাকব না।

২. জীবন এমন এক শক্তি যা আপনাকে পরিবর্তনকে স্বীকার করতে শেখায়।

৩. যে সমস্ত মানুষরা ভবিতব্যে বিশ্বাস করেন তাঁরাই রাস্তা পার করার সময় বারবার দু’দিকে তাকান।

৪. আমি এখনো বড় হইনি। আমি এখনো প্রশ্ন করতেই থাকি।

৫. যারা বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বড়াই করেন, তারা আসলে হেরে গিয়েছেন।

৬. আপনার শারীরিক বাধা কখনো ভাল কাজে বাধা হতে পারে না। শারীরিক সীমাবদ্ধতার জন্য কখনো অনুতাপ করবেন না। কাজ করার উদ্যমে বৈকল্য থাকা সব থেকে খারাপ।

৭. গত ৪৯ বছর নিয়ে আমার মৃত্যু নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। তাই আমি আর মরতে ভয় পাই না। তবে মৃত্যুর আগে আমাকে অনেক কাজ করতে হবে।

৮. মাটির দিকে তাকিও না, আকাশের দিকে তাকাও। কাজ করতে থাকো। কারণ কাজই জীবনে প্রাসঙ্গিক করে তোলে। আর যদি কপাল করে জীবনে ভালবাসা পাও কখনো থাকে ছুঁড়ে ফেল না।

৯. মানুষ কথা বলেই সব থেকে বেশি সাফল্য লাভ করে। মানুষের ব্যর্থতার কারণও এই আলাপচারিতা। তবে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়া উচিত।

১০. রাগ মানুষের সব থেকে বড় শত্রু। সভ্যতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে এই ক্রোধ।

উদঘাটনের পথে মিশরের অভিশপ্ত রাণী ‘নেফারতিতি’ রহস্য?


মিশরের ফারাও সম্রাজ্ঞীদের মধ্যে ক্লিওপেট্রার নাম এবং কাহিনী কমবেশী জানিনা এমন কেউ সম্ভবত আমাদের মধ্যে নেই। মিশরে জন্ম না নিয়েও ক্লিওপেট্রা মিশরের ফারাওয়ের রাণী হয়েছিলেন, হয়েছিলেন কিংবদন্তী। ক্লিওপেট্রা যতো না রূপের জন্য, তারচেয়ে বেশী আলোচিত তার ছলনার জন্যে। কিন্তু কিংবদন্তীর আর একজনের কথা হয়তো আমাদের মনেও নেই যিনি রূপে ছিলেন অদ্বিতীয়া, ক্ষমতায় সর্বোচ্চ। প্রায় তিন হাজার তিনশত বছর আগে ইতিহাস যেমন তাকে নিঃশব্দে চাপা দিয়েছে মিশরের বালুরাশির নীচে, তেমনি তিনি আমাদের মনের আড়ালেও চাপা পড়ে আছেন আজও। ক্লিওপেট্রারও হাজার বছর আগে যিনি ছিলেন ‘লেডি অব অল ওম্যান’, ‘লেডি অব গ্রেস’, ‘লেডি অব অল বিউটি’। নাম তার ‘নেফারতিতি’।

তিনি ছিলেন সর্বকালের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাণী। তার সৌন্দর্য ছিল অতুলনীয়। সমসাময়িককালে তার সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব তাকে সারাবিশ্বে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। তিনি আজ অবধি মিশরতো বটেই, সমগ্র পৃথিবীর প্রত্নতত্ত্ববিদদের নিকট এক রহস্যময় চরিত্র। বলা হয়, নেফারতিতির সময়ে মিশর ছিল ধন-সম্পদে সারা পৃথিবীর সেরা। Nefertiti অর্থ হল ‘A beautiful woman has come’। নেফারতিতি ছিলেন ক্ষমতাধর মিশররাজ ফারাও চতুর্থ আমেনহোতেপের স্ত্রী এবং ফারাও তুতেনখামেনের সৎ মা।

নেফারতিতির বংশপরিচয় সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। কেউ কেউ বলেন, তিনি প্রাচীন মিশরের আখমিম শহরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আই এর সন্তান অথবা ভাইঝি/ভাগ্নি। অপর বিশেষজ্ঞগণ বলেন, নেফারতিতি মিশরীয় ছিলেন না। তিনি সিরিয়ার অধিবাসী ছিলেন। সে যাই হোক, মাত্র ১৫ বছর বয়সে শাহজাদা চতুর্থ আমেনহোতেপের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। তখনও চতুর্থ আমেনহোতেপ সিংহাসনে আরোহণ করেননি। চতুর্থ আমেনহোতেপ এবং নেফারতিতির মধ্যে ভালবাসার অন্যরকম সম্পর্ক ছিল যা পূর্ববর্তী রাজা-রাণীর মধ্যে অতটা চোখে পড়ত না। প্রজা-সাধারণ অবাক হয়ে দেখত, প্রায়ই সম্রাট-সম্রাজ্ঞী রথে চড়ে শহরে ঘুরতে বেড়িয়েছেন। এমনকি তাদের প্রকাশ্যে পরস্পরকে চুমু খেতেও দেখা যেত। পরবর্তী ১২ বছরে নেফারতিতির গর্ভে ছ’জন কন্যাসন্তান জন্মলাভ করেন।

ফারাও তৃতীয় আমেনহোতেপের মৃত্যুর পর চতুর্থ আমেনহোতেপ সিংহাসনে আরোহণ করেই বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তন্মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল মিশরের আদি-ধর্মের সংস্কার। চতুর্থ আমেনহোতেপের এসব সংস্কার কর্মে নেফারতিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তৎকালীন মিশরবাসী প্রধান দেবতা আমেন রা এর পাশাপাশি অনেক দেব-দেবীর পূজাতে মত্ত ছিল। ফারাও চতুর্থ আমেনহোতেপ এবং রাণী নেফারতিতি এক সূর্যের পূজা অর্চনা শুরু করেন। তারা প্রচার করেন, সূর্যই (Aten) সবচেয়ে শক্তিশালী দেবতা এবং একমাত্র উপাসনার যোগ্য। তাদের এই প্রচারণা জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আলোড়নের জন্ম দেয়। অধিকন্তু রাজপরিবার সদস্যদের বসবাসের জন্য ফারাও চতুর্থ আমেনহোতেপ আখেতাতুন (বর্তমান el-Amarna) শহরের গোড়াপত্তন করেন এবং সেখানকার রাজপ্রাসাদ ঘিরে কয়েকটি সূর্যদেবতার মন্দির গড়ে তোলেন।

নেফারতিতি সূর্যদেবতার প্রতি এতটাই নিবেদিত প্রাণ ছিলেন যে, নিজের নাম ‘নেফারতিতি’ পরিবর্তন করে ‘নেফারনেফারুআতেন নেফারতিতি’ (Nefernefaruaten Nefertiti) নাম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ফারাও চতুর্থ আমেনহোতেপও সূর্যদেবতাকে সন্তুষ্ট করতে নিজের নাম পরিবর্তন করে আখেনআতেন (Akhenaten) রাখেন। বিশ্বাস করা হয় যে, এই নতুন পূজাপদ্ধতির পুরোহিত ছিলেন সম্রাট ও সম্রাজ্ঞী নিজেরাই এবং কেউ যদি সূর্যদেবতার উদ্দেশ্যে পূজা অর্চনা করতে চাইত তবে তাকে সম্রাট এবং সম্রাজ্ঞীর মাধ্যমেই তা করতে হত। এ পদ্ধতি মিশরবাসীর কাছে সম্পূর্ণ নতুন ছিল এবং এর ফলে দিকে দিকে সম্রাট-সম্রাজ্ঞীর নাম ছড়িয়ে পড়ে।

শুধু রাজকার্য এবং ধর্মচর্চা নয়, ফারাও আখেনআতেন ও রাণী নেফারতিতির আমলে চিত্রকলায় নতুন ধারা শুরু হয়। রাণী নেফারতিতি এবং তার কন্যাগণের যেসব ছবি এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়েছে তার সঙ্গে আগের যুগের চিত্রকলার ধারার সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না। তবে অবাক করা বিষয় হল, ফারাও আখেনআতেনের ১২ বছর শাসনামল শেষ হওয়ার পর নেফারতিতি সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া না। তবে কি ফারাও আখেনআতেনের মৃত্যুর পর নেফারতিতিকে গোপনে হত্যা করা হয়?

কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলেন, তার মৃত্যু হয়েছিল। কেউবা বলেন, ফারাও আখেনআতেনের মৃত্যুর পর নেফারতিতি পুরুষবেশ ধারণ করেন এবং পরবর্তী ফারাও তুতেনখামেনের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া অবধি মিশররাজ্য পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদল বলেন, আখেনআতেনের মৃত্যুর পর নেফারতিতি ফারাও Smenkhkare উপাধি ধারণ করে মিশরের রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। নেফারতিতির রাজমুকুট পরিহিত কিছু ছবি সেদিকেই ইঙ্গিত দেয়। আরেকদল বিশেষজ্ঞ এসব ধারণাকে নাকচ করে দিয়ে বলেন, ফারাও আখেনআতেনের মৃত্যুর পর একসময় পূর্ববর্তী দেবতা আমেন-রার পূজা আবার সমাজে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং রাণী নেফারতিতিকে অজ্ঞাত নির্বাসনে পাঠান হয়।

আসলে রাণী নেফারতিতির ভাগ্যে কি ঘটেছিল? জানতে হলে আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে তুতেনখামেনের সমাধির দেয়ালের স্ক্যান করা ছবি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে যেয়ে ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ নিকোলাস রিভস দেয়ালের গায়ে গোপন দরজার নকশা দেখতে পান। পরে আরো সূক্ষ্মভাবে স্ক্যান করে দেখা যায় উক্ত দেয়ালের পাশে ফাঁকা জায়গা রয়েছে যা কোনো আলাদা কক্ষ হতে পারে। নিকোলাস রিভস মনে করেন, তুতেনখামেনের সমাধিস্থল সর্বপ্রথম রাণী নেফারতিতি দখল করেন এবং সমাধির দেয়ালের অপর পাশেই নেফারতিতি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ঘুমিয়ে আছেন। নিকোলাস রিভসের ধারণা সত্যি হলে ১৯২২ সালে তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কারের পর প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হবে। এ ব্যাপারে অনুসন্ধানকারী দল ৯০ভাগ নিশ্চিত হলেও মিশরীয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার আগে ১০০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে।

আশা করা হচ্ছে, রাণী নেফারতিতির খোঁজ পাওয়া গেলে মিশরের পর্যটন শিল্পের পালে নতুন করে হাওয়া লাগবে। মিশরের হোসনি মোবারকের আমলে মিশর ছিল পর্যটক আকর্ষণকারী অন্যতম আফ্রিকান দেশ। পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতায় তা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে যায়। মৃত্যুর প্রায় ৩৩০০ বছর পরে আবার হয়ত রাণী নেফারতিতি মিশরের অর্থনীতিতে বলিষ্ঠ অবদান রাখতে সমর্থ হবেন।

ইতিহাসের এই রহস্যময় চরিত্রকে নিয়ে এ পর্যন্ত অসংখ্য বই-পুস্তক, গান-কবিতা রচনা করা হয়েছে। নির্মিত হয়েছে একাধিক চলচ্চিত্র। এমনকি Halo ভিডিও গেমের Cortana চরিত্রটি নেফারতিতির ছায়া অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছে। অচিরেই হয়তো নেফারতিতি সম্পর্কিত সকল জল্পনা-কল্পনা, ধ্যান-ধারণার অবসান ঘটবে। আর কিছু কালের অপেক্ষা মাত্র।

হারানো শহর আটলান্টিস রহস্য...


সমগ্র বিশ্বটিই আসলে এক ধরনের রহস্যে ঠাঁসা। প্রযুক্তির কাছে আমরা নিয়তই নিজেদের সঁপে দিচ্ছি, সেটা যেমন সত্য; ঠিক তেমনি প্রযুক্তি নানা ধরনের রহস্য এখনো উদঘাটন করতে পারেনি, এটিও সত্য। যা আমরা দেখিনি, তা বিশ্বাস করা যাবে না; কোন যুক্তির আধারে এটি বিশ্বাস করব? আধুনিক মানুষের আগেও পৃথিবীতে মানুষ আদিমতায় আচ্ছন্ন ছিল, ঠিক তেমনি প্রাচীন নানা নিদর্শন দেখে আমাদেরও মাঝে মাঝে ‘থ’ বনে যেতে হয়। যেমন মিশরের পিরামিডের গায়ে আঁকা হায়ারোগ্লিফিক্সের কথা বা মায়ানদের আঁকা ছবিতে নানা ধরনের গোপন রহস্যের সংকেত। সব কিছু নিয়েই বলা হবে তবে আজ যা নিয়ে আলোচনা করা হবে তা হচ্ছে, শত শত বছরের একটি পুরনো ধাঁধাঁ।

আটলান্টিসের হারানো শহর!

বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রত্নতাত্ত্বিক কিংবা জ্ঞানপিপাসু মাত্রই আটলান্টিসের প্রশ্নে মাথা চুলকোতে শুরু করেন। একদল বলেন হ্যাঁ, প্রাচীন এমন একটি সভ্যতা ছিল অবশ্যই যারা জ্ঞানে গুণে বর্তমান আধুনিক পৃথিবীবাসী থেকে এগিয়ে ছিল। তাদের ছিল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, সমুদ্র সম্পর্কে অসীম জ্ঞান এবং সম্পদের প্রাচুর্য। তবে এসবই ধারণা করা হয়। এর কোন কিছুই এখন পর্যন্ত স্বীকৃত সত্য বলে মতামত দেয়া হয়নি। বিজ্ঞানীরা যেমন একদিকে আটলান্টিসের পক্ষেও কথা বলছেন, আবার অন্যদিকে আটলান্টিসের বিরোধিতা করার সংখ্যাটিও কিন্তু নেহায়েত কম নয়।

এডগার ক্যায়সি নামক একজন ইতিহাসবিদ হারানো শহর আটলান্টিস নিয়ে নানা গবেষণা করেছেন। বিভিন্ন দেশের কথা, উপকথা, সাহিত্যে বারবার ঘুরে ফিরে সাগরতলের এমন একটি সভ্যতার কথা উঠে এসেছে যারা একসময় পৃথিবীতে খুবই দোর্দন্ড প্রতাপের সঙ্গে বসবাস করত। তিনি তার সারাজীবনের অর্জিত জ্ঞান একটি নোটবুকে লিপিবদ্ধ করেছেন। বলা বাহুল্য, সবকিছুই হারানো শহর আটলান্টিসকেন্দ্রিক।

তার সে নোটবুকে চমকপ্রদ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, আটলান্টিস শহরে তারাই প্রবেশ করতে পারবে যারা সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকবে। মিশরের সবচেয়ে বড় যে স্ফিংসটি রয়েছে, তার ডান থাবার নিচে পাওয়া যাবে আটলান্টিস শহরে প্রবেশের টিকিটখানা। তবে তিনি সঙ্গে সঙ্গে এটিও উল্লেখ করে দিয়েছেন যে, এটি কেবলমাত্র উপযুক্ত ব্যক্তিরাই প্রবেশ করতে পারবে।

আটলান্টিস শহরকে নিয়ে নানা ধরণের গল্প গাঁথা রয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, আটলান্টিস শহর তৈরি করেছিলেন সমুদ্র দেবতা পসেইডন। তিনি ক্লেইটো নাম্নী এক রমণীর প্রেমে পরেন এবং একটি পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় এই শহরটি নির্মাণ করেন। কিন্তু দিন যত যেতে থাকে, পসেইডন তার স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ পোষণ করতে থাকেন। তিনি ক্লেইটোকে একটি পাহাড়ে বন্দী করে রাখেন। পাহাড়টি বেষ্টিত ছিল মোটা মোটা থাম ও পিলারের মাধ্যমে। তার সীমাহীন ক্রোধে একসময় শহরটি জলের অতলে ডুবে যায়।

আটলান্টিসের বাসিন্দাদের ছিল অসাধারণ সব ক্ষমতা! তারা আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারত, সমুদ্রের গতিবিধি পরিবর্তন করতে পারত এমনকি তারা কি করে ধাতু থেকে স্বর্ণ পাওয়া যায়, তা সম্পর্কেও জানত। কেউ কেউ তো আবার বলেন এরাই কি ভিনগ্রহের প্রাণী?

প্লেটোর কিছু লেখায় পাওয়া যায় আটলান্টিসের সঠিক নির্দেশ হতে পারে আটলান্টিক মহাসাগরের কোন একটি স্থানে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা আজো এমন কোনো অবস্থান খুঁজে পাননি। আবার কেউ কেউ বলেন, আটলান্টিসের খোঁজ মিলতে পারে স্পেন ও মরক্কোর জলসীমায়। বিজ্ঞানীরা বলেন, আটলান্টিসের দেখা যদি সত্যিই পাওয়া যায়, তবে তা হবে সমগ্র এশিয়া ও লিবিয়ার সম্মিলিত অংশ জুড়ে।

পুরোটাই একটি মিথ! পৃথিবীর আরো অনেক অমীমাংসিত ঘটনার মাঝে এটিও একটি অন্যতম অমীমাংসিত ঘটনা। তবে তার চাইতেও বড় সত্য, হারানো শহর আটলান্টিস এখনো মানুষকে বিভোর করে, এখনো মানুষকে চমকে দেয়। কেউ কেউ আবার চান আটলান্টিস একটি মিথ হয়েই থাক।

দেখাই যাক কি হয়! এখনো পর্যন্ত এটি অমীমাংসিতই আছে।